হুনায়নের দিনে আওতাসের যুদ্ধবন্দিনিদেরকে কি বিবাহ বাতিল করে ধর্ষণ করা হয়েছিল?

হুনায়নের দিনে আওতাসের যুদ্ধবন্দিনিদেরকে কি বিবাহ বাতিল করে ধর্ষণ করা হয়েছিল?

51 বার দেখা হয়েছে
শেয়ার করুন:

 

অভিযোগঃ

হুনায়নের দিনে আওতাসে যুদ্ধ করে নবী মুহাম্মাদের () সাহাবীরা কিছু নারীদের ধরে আনেন এবং দাসী বানানসেসব নারীদের স্বামীরা জীবিত থাকায় তারা দ্বিধা করছিলেন এসব নারীর সাথে সহবাস করা ঠিক হবে কিনাকিন্তু কুরআনে আয়াত নাজিল হয়ে ঐ দাসীদের বিয়ে বাতিল করে সাহাবীদেরকে এই কাজের অনুমতি দিয়ে দেয়া হয়কোনো নারী কি তার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় অন্য পুরুষের সাথে শুতে রাজি হবে? এসব নারীদের সাথে সাহাবীরা জোরজবরদস্তি করেছেন এবং ধর্ষণ করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

 

জবাবঃ

এ অভিযোগের স্বপক্ষে ইসলামবিরোধীরা যে হাদিস পেশ করে তা নিম্নরূপঃ

 

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ يَوْمَ حُنَيْنٍ بَعْثًا إِلَى أَوْطَاسٍ فَلَقُوا عَدُوَّهُمْ فَقَاتَلُوهُمْ فَظَهَرُوا عَلَيْهِمْ وَأَصَابُوا لَهُمْ سَبَايَا فَكَأَنَّ أُنَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحَرَّجُوا مِنْ غِشْيَانِهِنَّ مِنْ أَجْلِ أَزْوَاجِهِنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ ‏(‏ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ‏)‏ أَىْ فَهُنَّ لَهُمْ حَلاَلٌ إِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهُنَّ ‏.

অর্থঃ “আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ আওতাসের দিকে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়ে তাদের নারীদেরকে বন্দী করে আনেন। কিন্তু সেই বন্দী নারীদের মুশরিক স্বামীরা বর্তমান থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী তাদের সাথে সঙ্গম করাকে গুনাহ মনে করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ ’’যে মহিলাদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত’’ (সূরা আন-নিসাঃ ২৪) অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী দাসী যখন তাদের ইদ্দাতকাল সমাপ্ত করবে তখন তারা তোমাদের জন্য বৈধ।[1]

 

অনুরূপ হাদিস সহীহ মুসলিমেও রয়েছে।

 

প্রশ্ন হচ্ছে, স্বামী থাকা অবস্থায় কোনো নারী কি অন্যের সাথে সহবাস করতে চাইবে? তবে কি এদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছিল?

এই অভিযোগের অপনোদন আমরা কয়েকটি ধাপে করব।

 

মুশরিক দাসীদের সহিত সহবাসে নিষেধাজ্ঞাঃ

আল কুরআনে সুরা বাকারাহর ২২১ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

 

وَ لَا تَنۡكِحُوا الۡمُشۡرِكٰتِ حَتّٰی یُؤۡمِنَّ ؕ

অর্থঃ "আর তোমরা মুশরিক নারীদের 'নিকাহ' করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে..."

 

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির কুরতুবীতে বলা হয়েছে—

 

وَنَكَحَ أَصْلُهُ الْجِمَاعُ، وَيُسْتَعْمَلُ فِي التَّزَوُّجِ تَجَوُّزًا وَاتِّسَاعًا،

অর্থঃ “এবং "نَكَحَ" (নাকাহা) কথাটির মূল অর্থ হলো "সঙ্গম করা," তবে এটি রূপক অর্থে এবং ব্যাপক অর্থে "বিবাহ করা" অর্থেও ব্যবহার করা হয়।[2]

 

‘নিকাহ’ কথাটির দ্বারা সাধারণত বিয়ে বোঝানো হলেও আরবি ভাষায় বৃহত্তর অর্থে এর দ্বারা সহবাসকেও বোঝানো হয়। কাজেই আল কুরআনের এই আয়াত দ্বারা মুশরিক নারীদের সঙ্গে সকল প্রকার সহবাসকেই মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ হোক তা স্ত্রীর সহিত অথবা বৈধ দাসীর সহিত। আল কুরআনের আয়াতের আলোকে মুসলিম উম্মাহর প্রায় সকল উলামাই এই ব্যাপারে একমত যে মুশরিক দাসীর সহিত সহবাস বৈধ নয়। এ ব্যাপারে যদিও খুব অল্প কিছু আলেম দ্বিমত করেছেন, তবে এই তারা সংখ্যায় এত কম যে এই দ্বিমতকে ‘ইখতিলাফ’ হিসেবেও গণ্য করা হয় না। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু কুদামা মাকদিসি(র.) তাঁর সুবিখ্যাত ‘আল মুগনী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন--

 

 أَنَّ مَنْ حُرِّمَ نِكَاحُ حَرَائِرِهِمْ مِنْ الْمَجُوسِيَّات، وَسَائِرِ الْكَوَافِرِ سِوَى أَهْلِ الْكِتَابِ، لَا يُبَاحُ وَطْءُ الْإِمَاءِ مِنْهُنَّ بِمِلْكِ الْيَمِينِ. فِي قَوْل أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ، مِنْهُمْ؛ مُرَّةُ الْهَمْدَانِيُّ، وَالزُّهْرِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، وَالثَّوْرِيُّ، وَأَبُو حَنِيفَةَ، وَمَالِكٌ، وَالشَّافِعِيُّ. وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: عَلَى هَذَا جَمَاعَةُ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ، وَجُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ، وَمَا خَالَفَهُ فَشُذُوذٌ لَا يُعَدُّ خِلَافًا.

অর্থঃ “যে সকল স্বাধীন নারীদেরকে বিয়ে করা হারাম করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আছে আহলে কিতাব ব্যতিত মাজুসী (Zoroastrians/অগ্নিপূজকদের) এবং অন্য সকল কাফির নারী। তাদের ক্ষেত্রে মালিকানার অধিকারেও দাসীদের সাথে সহবাস জায়েজ নয়। এটাই অধিকাংশ আলিমের বক্তব্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুররাহ আল-হামদানি(র.), যুহরি(র.), সাঈদ বিন জুবাইর(র.), আওযায়ী(র.), সাওরি(র.), আবু হানিফা(র.), মালিক(র.) এবং শাফিঈ(র.)। ইবন আব্দুল বার(র.) বলেছেন: "এটাই বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের মত এবং অধিকাংশ আলিমের অভিমত। এর বিপরীত যে মত আছে, তা শুযুয (বিচ্ছিন্ন মত) এর অন্তর্ভুক্ত এবং সেটিকে কোনো মতপার্থক্য হিসেবেও গণ্য করা হয় না।[3]

 

এই মাসয়ালা এখানে উল্লেখ করার কারণ কী? এর কারণ হল, আওতাসের সেই যুদ্ধবন্দিনি নারীরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আটক হবার সময়ে ছিলেন মুশরিক। আবার, হাদিসে তাদের সহিত সহবাস জায়েজ হবে কিনা তা নিয়ে সাহাবীদের প্রশ্নের উল্লেখ পাওয়া যায়। মুশরিক নারীদের সাথে সহবাস নিষিদ্ধ হলে সাহাবীরা কী করে তাদের সাথে সহবাস করার কথা ভাবলেন?

এর উত্তর হলঃ তারা সেই সময়ে আর মুশরিক ছিলেন না!

 

যুদ্ধবন্দিনিদের ইসলাম গ্রহণ এবং এরপর তাদের সহিত সহবাস বৈধ হবে কিনা সেই মাসয়ালার উদ্ভবঃ

আওতাসের যুদ্ধবন্দিনি প্রসঙ্গে যে হাদিসটি পেশ করা হয়েছিল, এর ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম নববী(র.) উল্লেখ করেছেন—

 

الْمَسْبِيَّةَ مِنْ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْكُفَّارِ الَّذِينَ لَا كِتَابَ لَهُمْ لَا يَحِلُّ وَطْؤُهَا بِمِلْكِ الْيَمِينِ حَتَّى تُسْلِمَ فَمَا دَامَتْ عَلَى دِينِهَا فَهِيَ مُحَرَّمَةٌ وهَؤُلَاءِ الْمَسْبِيَّاتُ كن من مشركي العرب عبدة الأوثان فيؤول هَذَا الْحَدِيثُ وَشِبْهُهُ عَلَى أَنَّهُنَّ أَسْلَمْنَ وَهَذَا التَّأْوِيلُ لَا بُدَّ مِنْهُ

অর্থঃ “মূর্তিপূজক বা অন্যান্য কাফির নারীরা, যাদের কোনো (আসমানী) কিতাব নেই, তাদের থেকে যুদ্ধবন্দী নারীদের মালিকানার অধিকার (মিলকুল ইয়ামিন) পাওয়ার পরও তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বৈধ নয় যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে। যদি তারা তাদের পূর্ব ধর্মে অবিচল থাকে, তবে তারা (সহবাসের জন্য) হারাম থাকে। এই হাদিস এবং এর অনুরূপ কথাগুলোর ব্যাখ্যা এমনভাবে করতে হবে যে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে (এবং এর আগে তাদের সাথে কোনোরূপ সহবাস হয়নি), এবং এই ব্যাখ্যাটি অপরিহার্য।[4]

 

আলোচ্য ঘটনা প্রসঙ্গে আল কুরআনের একটি আয়াতও (সুরা নিসার ২৪ নং আয়াত) নাজিল হয়েছিল। আল কুরআনের অন্যতম প্রাচীন তাফসির গ্রন্থ তাফসির তাবারীতে সুরা নিসার ২৪ নং আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করা হয়েছে—

 

উল্লেখিত আয়াতের শানে নুযূল সম্বন্ধে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) হতে যে হাদীস বর্ণিত আছে, সে হাদীসের উপর ভিত্তি করে কেউ দোষারূপ করে বলতে পারে যে, আয়াতাংশের যে সকল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এবং আয়াতের অন্য যে কয়টি শানে নুযূল উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)-এর বর্ণিত হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, আওতাসের যুদ্ধে যে সকল নারী বন্দী হয়েছিল, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ্ পাক উক্ত আয়াতটি নাযিল করেছেন ।

 

এ ভুল উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বলা হয়েছে যে, আওতাসের যুদ্ধ বন্দীদের সাথে তারা মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত অধিকারভুক্ত হিসাবে তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করা হয়নি। তারা ছিল মুশরিক পৌত্তলিক, আর তখনও বিধান ছিল যে, শুধু অধিকার বা মালিকানা দ্বারা মূর্তি উপাসকদের নারীদের ব্যবহার মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তাদের মধ্যে এবং তাদের মুশরিক স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। এ হুকুম শুধু বন্দীদের ক্ষেত্রে নয় বরং যে সকল অন্য ধর্মাবলম্বিণী সধবা নারী দেশ ত্যাগী বা স্বামী ত্যাগী ছিল, তাদের ক্ষেত্রেও এ হুকুম ছিল । আওতাসের যুদ্ধবন্দী নারীগণ যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পবিত্রতা লাভ করেছিল, তখন তারা মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য বৈধ হয়েছে। অন্য নারীদেরকে বাদ দিয়ে শুধু সধবা বন্দী নারীদের কথাই وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ তে আল্লাহ্ তা'আলা উল্লেখ করেছেন, এ কথা বলার অবকাশ নেই । যেহেতু এরূপ উক্তির কোন দলীল নেই । হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসের আলোকে উক্ত আয়াত যদিও আওতাসের যুদ্ধ বন্দীদের উপলক্ষ্যে অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু আয়াতের ব্যাখ্যায় আমরা যা উল্লেখ করেছি তা বাদ দিয়ে শুধু বন্দীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক বৈধ করণার্থে আয়াতটি নাযিল হয়নি। কুরআনের আয়াত যদিও কোন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় নাযিল হয়েছে দেখা যায়, কিন্তু তার প্রয়োগ সামগ্রিকভাবে।[5]

 

সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির ইমাম ইবন কাসির(র.) তাঁর সুবিখ্যাত ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে আলোচ্য ঘটনা বর্ণনা করে এ প্রসঙ্গে জমহুর (অধিকাংশ) উলামার অভিমত উল্লেখ করে বলেন, “এ ঘটনা একটি ব্যতিক্রমী বিষয়। হতে পারে তারা হয়তোবা ইসলাম গ্রহণ করেছিল; কিংবা তারা ছিল আহলে কিতাব।[6]

 

আওতাসের যুদ্ধবন্দিনিদের আহলে কিতাব হওয়ার ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই। কাজেই তারা মুশরিক ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করার পরে সাহাবী(রা.) তাদের সহিত স্ত্রীরূপ আচরণ করার কথা ভাবছিলেন এই ব্যাখ্যাটিই গ্রহণ করতে হবে। ইমাম ইবনু কুদামা মাকদিসি(র.) উল্লেখ করেছেন--

 

وَقَدْ أَجَبْت عَنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ بِأَجْوِبَةٍ، مِنْهَا أَنَّهُ يَحْتَمِلُ أَنَّهُنَّ أَسْلَمْنَ،

অর্থঃ “আমি আবু সাঈদ [খুদরী(রা.)] এর হাদিস সম্পর্কে কয়েকটি উত্তরের মাধ্যমে জবাব প্রদান করেছি। এর মধ্যে একটি হলো, সম্ভবত সেই নারীরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল।”  [7]

 

সেই নারীদের দাসীতে পরিণত হবার জন্য কি বিয়ে বাতিল হয়েছিল? নাকি ধর্ম পরিবর্তনের জন্য তা হয়েছিল?

অনেকে দাবি করে যে যুদ্ধবন্দিনিদের দাসত্বের কারণে তাকি স্বামী জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিয়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন হল, এই দাবির বাস্তবতা কতটুকু? ইমাম ইবন হাযম(র.) এই প্রসঙ্গে সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এই ঘটনাটির ব্যাপারে কারো যদি কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা বা সংশয় থেকে থাকে, ইমাম ইবন হাযম(র.) এর এই দীর্ঘ আলোচনাটি পাঠ করলে তা পুরোপুরি কেটে যাবার কথা —

 

{وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ} [البقرة: ٢٢١] .

وَلَمْ يَخُصَّ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ هَذَا التَّحْرِيمِ إلَّا مَا كَانَ بِالزَّوَاجِ فَقَطْ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ} [المائدة: ٥] .

وَقَدْ صَحَّ أَنَّ عُقُودَ نِكَاحَاتِ الْكُفَّارِ صِحَاحٌ، وَمِنْهَا كَانَتْ وِلَادَةُ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَصْحَابِهِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ - وَمَا صَحَّ فَلَا سَبِيلَ لِإِبْطَالِهِ إلَّا بِنَصٍّ - فَصَحَّ أَنَّهَا مَا لَمْ تُسْلِمْ الْمَسْبِيَّةُ ذَاتُ الزَّوْجِ فَهِيَ عَلَى زَوْجِيَّتِهَا سَوَاءٌ بَقِيَ فِي دَارِ الْحَرْبِ أَوْ سُبِيَ مَعَهَا.

وَأَمَّا قَوْلُ مَنْ قَالَ: إنَّ اخْتِلَافَ الدَّارَيْنِ يَقْطَعُ عِصْمَةَ النِّكَاحِ، فَقَوْلٌ بَاطِلٌ فَاسِدٌ، لِأَنَّهُ دَعْوَى مُجَرَّدَةٌ لَمْ يُؤَيِّدْهَا قَطُّ قُرْآنٌ، وَلَا سُنَّةٌ وَقَدْ تَكَلَّمْنَا فِي صَدْرِ كِتَابِنَا هَذَا فِي الْخَبَرِ الْوَارِدِ مِنْ طَرِيقِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ إذْ أَصَابُوا سَبَايَا أَوْطَاسٍ، فَتَحَرَّجُوا مِنْ غَشَيَانِهِنَّ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: ٢٤] فَهُنَّ لَكُمْ حَلَالٌ إذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهُنَّ.

وَبَيَّنَّا أَنَّهُنَّ بِيَقِينٍ - مُتَّفَقٍ عَلَيْهِ - وَثَنِيَّاتٌ مِنْ سَبَايَا هَوَازِنَ، وَوَطْؤُهُنَّ لَا يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِينَ حَتَّى يُسْلِمْنَ بِلَا خِلَافٍ مِنَّا وَمِنْ الْحَاضِرِينَ مِنْ الْمُخَالِفِينَ وَبِنَصِّ تَحْرِيمِ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ - فَصَحَّ أَنَّ مُرَادَ اللَّهِ تَعَالَى بِذَلِكَ إذَا أَسْلَمْنَ.

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: فَإِذَا أَسْلَمْنَ فَلَا يَخْلَوْنَ ضَرُورَةً مِنْ أَنْ يَكُونَ زَوْجُ مَنْ أَسْلَمَ مِنْهُنَّ سُبِيَ مَعَهَا أَوْ لَمْ يُسْبَ، بَلْ هُوَ فِي أَرْضِهِ، فَإِنْ كَانَ مَعَهَا أَوْ فِي أَرْضِهِ وَلَمْ يُسْلِمْ قَبْلَ إسْلَامِهَا إنْ كَانَتْ كِتَابِيَّةً، أَوْ مَعَ إسْلَامِهَا كَائِنًا مَا كَانَ دِينُهَا؟ فَقَدْ انْفَسَخَ نِكَاحُهَا مِنْهُ عَلَى مَا نَذْكُرُ بَعْدَ هَذَا - إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى - فَإِذَا انْفَسَخَ نِكَاحُهَا بِإِسْلَامِهَا دُونَ إسْلَامِ زَوْجِهَا فَقَدْ حَلَّ فَرْجُهَا لِسَيِّدِهَا الْمُسْلِمِ حِينَئِذٍ: بِنَصِّ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ بِلَا خِلَافٍ، فَإِنْ أَسْلَمَ زَوْجُهَا مَعَ إسْلَامِهَا كَائِنًا مَا كَانَ دِينُهَا، أَوْ أَسْلَمَ قَبْلَ إسْلَامِهَا وَهِيَ كِتَابِيَّةٌ، فَهُمَا فِي كُلِّ مَا ذَكَرْنَا بَاقِيَانِ عَلَى زَوْجِيَّتِهِمَا، لِمَا ذَكَرْنَا: مِنْ أَنَّ كُلَّ نِكَاحٍ صَحَّ بِتَصْحِيحِ اللَّهِ تَعَالَى إيَّاهُ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ فَسْخُهُ إلَّا بِنَصِّ قُرْآنٍ أَوْ سُنَّةٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ثَابِتَةٍ، وَلَا سَبِيلَ إلَى وُجُودِ شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فِي فَسْخِ نِكَاحِ الْمَسْبِيَّةِ بَعْدَ إسْلَامِهَا دُونَ إسْلَامِ زَوْجِهَا فَقَطْ.

অর্থঃ {“তোমরা মুশরিক নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন ঈমানদার দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।”} [সুরা বাকারাহ ২২১]

আল্লাহ তা’আলা এই নিষেধাজ্ঞায় বিয়ে করা ব্যতিত আর কিছু করাকে খাস করেননি। যেমন তিনি বলেন: {“তোমাদের জন্য বৈধ হলো ঈমানদার নারীগণ এবং যাদেরকে তোমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে থেকে সতী-সাধ্বী নারীগণ, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মোহরানা প্রদান করবে।”} [সুরা মায়িদাহ ৫]

 

এটি নিশ্চিত যে, কাফিরদের বিবাহ চুক্তিগুলো বৈধ, এবং মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ এবং তাঁর সাহাবাদের(রা.) জন্ম হয়েছে {কেননা তাঁদের পিতা-মাতা মুশরিক ছিলেন}। যা বৈধ, তা কেবল স্পষ্ট দলিল ছাড়া বাতিল করা যায় না। অতএব, এটি প্রমাণিত যে, যদি কোনো বন্দিনি নারী যার স্বামী রয়েছে, ইসলাম গ্রহণ না করে, তবে সে তার স্বামীর সাথে বিবাহিত সম্পর্কেই থাকবে, তা সে যুদ্ধক্ষেত্রের এলাকায় থাকুক বা স্বামীর সাথে বন্দী অবস্থায় থাকুক।

 

যারা বলে যে, ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থাকা বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়, তাদের বক্তব্য ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ এটি একটি অবান্তর দাবি, যা কুরআন বা সুন্নাহ দ্বারা সমর্থিত নয়। আমরা আমাদের এই গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছি, আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসটি, যেখানে আওতাস যুদ্ধের বন্দিনী নারীদের সাথে সহবাসকে মুসলিমরা নাজায়েজ ভেবেছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন: {“ আর নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ”} [সুরা নিসা ২৪]। তাদের ইদ্দত শেষ হলে তারা তোমাদের জন্য বৈধ।

 

আমরা নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি এবং এ ব্যাপারে ঐক্যমত আছে— তারা ছিল হাওয়াযিন গোত্রের বন্দিনী মুশরিক নারী এবং ইসলাম গ্রহণ ছাড়া তাদের সাথে সহবাস করা মুসলিমদের জন্য বৈধ ছিল না। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে বা আমাদের বিপক্ষ মতের (আলেমদের) মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। আর ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক নারীদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থেকে স্পষ্ট যে, আল্লাহ তা’আলা এখানে ইসলাম গ্রহণ করাকে [সহবাস করার পূর্বশর্ত] বুঝিয়েছেন।

 

আবু মুহাম্মাদ [ইবন হাযম] বলেছেনঃ যদি তারা [যুদ্ধবন্দিনি] ইসলাম গ্রহণ করে, [তবে দুটি অবস্থা হতে পারেঃ] হয় তাদের মধ্যে যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাঁর স্বামীও বন্দী অবস্থায় তার সাথে আছে, অথবা তিনি [স্বামী] তার নিজ দেশে/এলাকায় রয়ে গেছেন। যদি তিনি তার সাথে থাকেন (যুদ্ধবন্দী হন) অথবা নিজ দেশে থাকেন এবং তাঁর স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করার আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ না করেন— যদি স্ত্রী আহলে কিতাব হয় বা যে কোনো ধর্মেরই হোক—তাহলে তাদের বিবাহ সম্পর্ক বাতিল হয়ে যায়। আমরা পরে এটি ব্যাখ্যা করব, ইনশাআল্লাহ। যখন তার বিবাহ সম্পর্ক তার ইসলাম গ্রহণের কারণে এবং তার স্বামীর ইসলাম গ্রহণ না করার কারণে বাতিল হয়ে যায়, তখন কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে সেই মুসলিম মালিকের জন্য তিনি বৈধ হয়ে যান, এ ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য নেই।

 

যদি তার স্বামী তার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন — তিনি যে কোনো ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করুন, অথবা তার আগে ইসলাম গ্রহণ করেন, যখন স্ত্রী আহলে কিতাব ছিলেন -- তবে তারা তাদের বিবাহ সম্পর্কে বহাল থাকবেন। কারণ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আল্লাহ তা’আলা যেকোনো বিবাহ বৈধ করেছেন, তা বাতিল করা কেবল কুরআনের স্পষ্ট দলিল বা রাসুলুল্লাহ -এর প্রমাণিত সুন্নাহ ছাড়া সম্ভব নয়। বন্দিনী নারীর ইসলাম গ্রহণের পর এবং তার স্বামীর ইসলাম গ্রহণ ছাড়া বিবাহ সম্পর্ক বাতিল করার জন্য এমন কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। [8]

 

ইমাম ইবন হাযম(র.) এখানে সুনিশ্চিতভাবে এবং উলামাদের ঐক্যমত সহকারে এটি উল্লেখ করেছেন যে আওতাসের হাওযিন গোত্রের সেই যুদ্ধবন্দিনি নারীরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং এর পরে সাহাবীগণের(রা.) জন্য তাঁরা বৈধ হয়ে গিয়েছিলেন। স্রেফ দাসত্বের কারণে তাদের বিয়ে বাতিলের প্রশ্নই ওঠে না। বিয়ে বাতিলের প্রশ্ন আসে যদি স্বামো বা স্ত্রীর কোনো একজন মুশরিক থেকে ইসলাম গ্রহণ করে। আর তাদের উভয়ে যদি মুশরিক অবস্থায় থাকে বা উভয়ে যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে আর বিয়ে বাতিল হয় না। ইসলামী ইতিহাস থেকে আমরা পাই, ঐ নারীদের স্বামীরাও পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাদেরকে তাদের স্বামীদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে।

 

ইসলাম গ্রহণে জোর-জবরদস্তি করা নিষিদ্ধঃ

আল কুরআনে স্পষ্টত কাউকে ইসলাম গ্রহণ করতে জোর করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

لَاۤ اِكۡرَاهَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ

অর্থঃ “দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কেন জোর-জবরদস্তি নেই; সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে।…” [9]

 

আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির ইবন কাসিরে উল্লেখ করা হয়েছেঃ

আসবাক (রা) হইতে ধারাবাহিকভাবে আবূ হিলাল, শরীক, আমর ইবন আ’উফ, ইবনু আবূ হাতিমের পিতা ও ইবন আবূ হাতিম (র) বর্ণনা করেন যে, আসবাক (রা) বলেনঃ

 

আমি আমার ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিয়াই ইবন খাত্তাব (রা)-এর দাস হিসাবে নিয়োজিত ছিলাম। তিনি আমাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করিতেছিলেন। আমিও তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করিতেছিলাম। তখন তিনি বললেন, “ইসলামের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই।” তিনি আরো বললেন, হে আসবাক! তুমি ইসলাম গ্রহণ করিলে তোমার অনেক কল্যাণ হইত।[10]

 

উমার(রা.) এর খ্রিষ্টান দাসের এই ঘটনাটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত। [11] এ থেকে প্রমাণিত হল আলোচ্য আয়াত মানসুখ হয়নি এবং উমার(রা.) এই আয়াত থেকে হুকুম গ্রহণ করেছেন যে এমনকি একজন দাসের প্রতিও ইসলাম গ্রহণে জোর করা যাবে না। আল কুরআন থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত যে কাউকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো যাবে না।

 

অতএব এ থেকে এটিও বোঝা যায় যে, হাওয়াযিন গোত্রের যুদ্ধবন্দিনি নারীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি করা হয়নি। আল কুরআনে যেই কাজটি করতে নিষেধ করা হয়েছে, মুত্তাকী সাহাবী(রা.)গণ তা করবেন এমনটি কল্পনাও করা যায় না। তাদের এই ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি একদমই অস্বাভাবিক না বরং খুবই স্বাভাবিক। ঐ নারীদের স্বামীরা কাপুরুষের মতো তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিল। এমন কাপুরুষ স্বামী এবং তাদের গোত্র ও ধর্মের প্রতি স্ত্রীদের বিতৃষ্ণা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। সেই নারীরা সাহাবীদের নিকট বণ্টিত হবার পূর্বে ১০ দিন অতিথি হয়ে ছিলেন (এ ব্যাপারে সামনে আলোচনা আসছে), ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের সাথে অত্যন্ত সদয় এবং রীতিমত অতিথীসুলভ আচরণ করা হয়। আর এই ১০ দিনে সাহাবীদের উত্তম আচরণ দেখে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরে সেই নারীরা ইসলাম কবুল করেছিলেন। নারীদের মাঝে পরাজিত-পলায়নকারীর চেয়ে সাহসী ও বিজয়ী পুরুষদের অনুসরণ করার প্রবনতা রয়েছে। 

 

সেই নারীদের কেন যুদ্ধবন্দিনি বা দাসী বানানো হয়েছিল?

এখন কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেনঃ সেসব যুদ্ধবন্দিনিদের যদি জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ না-ও করানো হয় – তবুও তাদেরকে কেন যুদ্ধবন্দিনি করা হয়েছিল আর কেনইবা তারা দাসী হয়েছিলেন? এর উত্তরে শুরুতেই আমরা কাদেরকে দাস-দাসী বানানো যায় এ সম্পর্কে ইসলামী নীতিমালা উল্লেখ করছি। এ প্রসঙ্গে কুয়েতের ফিকহ বিষয়ক বিশ্বকোষ ‘আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ’তে উল্লেখ আছে—

 

٦ - مَنْ لَهُ حَقُّ الاِسْتِرْقَاقِ:

اتَّفَقَتْ كَلِمَةُ الْفُقَهَاءِ عَلَى أَنَّ الَّذِي لَهُ حَقُّ الاِسْتِرْقَاقِ أَوِ الْمَنِّ أَوِ الْفِدَاءِ هُوَ الإِْمَامُ الأَْعْظَمُ لِلْمُسْلِمِينَ، بِحُكْمِ وِلاَيَتِهِ الْعَامَّةِ، أَوْ مَنْ يُنِيبُهُ، وَلِذَلِكَ جُعِل إِلَيْهِ أَمْرُ الْخِيَارِ فِي الاِسْتِرْقَاقِ وَعَدَمِهِ 

[المغني ٨ / ٣٧٢، ٣٧٧، وأسنى المطالب ٤ / ١٩٣ طبع المكتبة الإسلامية، وحاشية الدسوقي ٢ / ٢٠٥، وحاشية] .

أَسْبَابُ الاِسْتِرْقَاقِ:

أَوَّلاً - مَنْ يُضْرَبُ عَلَيْهِ الرِّقُّ:

٧ - لاَ يَجُوزُ ضَرْبُ الرِّقِّ عَلَى النِّسَاءِ إِلاَّ إِذَا تَوَفَّرَتْ فِيمَنْ يُسْتَرَقُّ صِفَتَانِ: الصِّفَةُ الأُْولَى الْكُفْرُ، وَالصِّفَةُ الثَّانِيَةُ الْحَرْبُ، سَوَاءٌ أَكَانَ مُحَارِبًا بِنَفْسِهِ، أَمْ تَابِعًا لِمُحَارِبٍ، عَلَى التَّفْصِيل التَّالِي:

أ - الأَْسْرَى مِن الَّذِينَ اشْتَرَكُوا فِي حَرْبِ الْمُسْلِمِينَ فِعْلاً.

٨ - وَهَؤُلاَءِ إِمَّا أَنْ يَكُونُوا مِنْ أَهْل الْكِتَابِ، أَوْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، أَوْ مِنَ الْمُرْتَدِّينَ، أَوْ مِنَ الْبُغَاةِ.

(١) فَإِنْ كَانُوا مِنْ أَهْل الْكِتَابِ: جَازَ اسْتِرْقَاقُهُمْ بِالاِتِّفَاقِ، وَالْمَجُوسُ يُعَامَلُونَ مِثْلَهُمْ فِي هَذَا.

(٢) أَمَّا إِنْ كَانُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ: فَإِمَّا أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْعَرَبِ أَوْ مِنْ غَيْرِهِمْ، فَإِنْ كَانُوا مِنْ غَيْرِ الْعَرَبِ فَقَدْ قَال الْحَنَفِيَّةُ، وَالْمَالِكِيَّةُ، وَبَعْضُ الشَّافِعِيَّةِ، وَبَعْضُ الْحَنَابِلَةِ: يَجُوزُ اسْتِرْقَاقُهُمْ. وَقَال بَعْضُ الشَّافِعِيَّةِ، وَبَعْضُ الْحَنَابِلَةِ: لاَ يَجُوزُ.

أَمَّا إِنْ كَانُوا مِنَ الْعَرَبِ: فَقَدْ ذَهَبَ الْمَالِكِيَّةُ، وَبَعْضُ الشَّافِعِيَّةِ، وَبَعْضُ الْحَنَابِلَةِ إِلَى جَوَازِ اسْتِرْقَاقِهِمْ.

وَاسْتَثْنَى الْمَالِكِيَّةُ مِنْ ذَلِكَ الْقُرَشِيِّينَ، فَقَالُوا: لاَ يَجُوزُ اسْتِرْقَاقُهُمْ.

অর্থঃ “ ৬ - যাদের দাসত্বে আবদ্ধ করার অধিকার [মুসলিমদের] রয়েছেঃ

ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মুসলিমদের সর্বোচ্চ ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তাঁর সাধারণ কর্তৃত্বের কারণে দাসত্বে আবদ্ধ করা, অনুগ্রহ প্রদর্শন করা (নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া) কিংবা মুক্তিপণ গ্রহণ করার অধিকার রাখেন। অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি এই অধিকার লাভ করবেন। এ কারণেই দাসত্বে আবদ্ধ করা বা না করার সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

[আল-মুগনি ৮/৩৭২, ৩৭৭; আসনা আল-মাতালিব ৪/১৯৩, আল-মাকতাবা আল-ইসলামিয়া সংস্করণ; হাশিয়াতুদ দিসুকি ২/২০৫]।

 

দাস বানানোর কারণসমূহঃ
প্রথমত - যাদের দাস বানানো যাবেঃ
৭ - কারোর ওপর দাসত্ব আরোপ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার মধ্যে দু’টি বৈশিষ্ট্য একত্রে বিদ্যমান থাকেঃ

প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো কুফর, এবং দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া।

চাই সে সরাসরি যুদ্ধকারী হোক অথবা কোনো যুদ্ধকারীর অনুসারী হোক; যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপঃ

ক) যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছে এমন যুদ্ধবন্দী।
৮ - এরা হয় আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিষ্টান), অথবা মুশরিক (পৌত্তলিক), অথবা মুরতাদ (ইসলামত্যাগী), কিংবা বিদ্রোহী হবে।

(১) যদি তারা আহলে কিতাব হয়ঃ তবে সর্বসম্মতভাবে তাদের দাস বানানো বৈধ, এবং অগ্নিপূজকদের (মাজুসী বা Zoroastrian) ক্ষেত্রেও এই বিষয়ে তাদের মতোই আচরণ করা হবে।

(২) আর যদি তারা পৌত্তলিক হয়ঃ তবে তারা হয় আরব হবে অথবা অনারব হবে। যদি তারা অনারব হয়, তবে হানাফী, মালিকি, কিছু শাফিঈ এবং কিছু হাম্বলী ফকিহদের মতে তাদের দাস বানানো বৈধ। তবে কিছু শাফিঈ এবং কিছু হাম্বলী ফকিহ বলেছেন তা বৈধ নয়।

আর যদি তারা আরব হয়ঃ তবে মালিকি, কিছু শাফিঈ এবং কিছু হাম্বলী ফকিহের মতে তাদের দাস বানানো বৈধ। তবে মালিকিগণ কুরাইশ বংশীয়দের এর বাইরে রেখেছেনতাঁরা বলেছেন কুরাইশদের দাস বানানো বৈধ নয়।[12]

 

বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থে এটি উল্লেখ আছে যে, হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্রের পুরুষরা তাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে নিয়ে এসেছিল। [13] কাজেই খুব স্বাভাবিকভাবে ইসলামী মূলনীতি অনুসারে মুসলিমরা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুসৈন্যদের অনুসারী বা সহকারী হিসেবে তাদের আটক করেছে এবং যুদ্ধবন্দী বানিয়েছে। সেই যুদ্ধটি কেন হয়েছিল? কারণ হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্রের লোকেরা মালিক বিন আউফের নেতৃত্বে ২০ হাজার সৈন্যের বিশাল এক বাহিনী নিয়ে মক্কা বিজয়ী মুসলিমদের আক্রমণ করতে এগিয়ে আসছিল। [14] তাদের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য এই যুদ্ধ হয়েছিল।

 

সাহাবীরা কি আসলেই সেই নারীদের সাথে সহবাস করেছেন?

হাওয়াযিন গোত্রের সেই নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে সাহাবীদের হাতে আটক হবার সাথে সাথেই তাঁদের দাসীতে পরিণত হননি। রহমাতাল্লিল ‘আলামিন নবী() চাচ্ছিলেন যে ঐ নারীদের স্বামীরা ফিরে আসে এবং তাদের স্ত্রী-পরিজনদের নিয়ে যায়। এই ইতিহাসের বর্ণনা দিয়ে ইবন হাজার আসকালানী(র.) এর সুবিখ্যাত ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের বরাতে আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী(র.) উল্লেখ করেছেন—

 

নবী (সা) তায়েফ থেকে রওয়ানা হয়ে ৫ যিলকাদা জি'রানা পৌঁছেন। সেখানে গনীমতের মালসমূহ জমা করা হয়েছিল। গনীমতের মালের মধ্যে ৬ হাজার বন্দী, ৩৪ হাজার উট, ৪০ হাজার বকরী এবং ৪ হাজার উকিয়া রৌপ্য ছিল। এখানে পৌঁছার পর নবী (সা) দশ দিনের অধিক হাওয়ায়িন গোত্রের অপেক্ষা করেন। হয়ত তারা স্বীয় আপনজন, শিশু ও মহিলাদেরকে মুক্ত করে নেয়ার জন্য আগমন করবে। কিন্তু দশ দিন অপেক্ষা করার পরও যখন কেউ আগমন করেনি, তখন নবী (সা) গনীমতের মালামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। (ফাতহুল বারী, ৮ খ, পৃ. ৩৮; উয়ূনুল আসার, ২ খণ্ড, পৃ. ১৯৩)[15]

 

কিন্তু এরপরেও হাওয়াযিন গোত্রের পুরুষরা নিজ স্ত্রীকে নিয়ে যাবার জন্য না এলে তাদের স্ত্রীদের সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়, যেই স্ত্রীরা ইতিমধ্যেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তখন সাহাবীরা নিজ অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথে সহবাস করতে পারবেন কিনা সেই প্রশ্ন চলে আসে, এবং এর জবাবে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়।

 

কিন্তু বৈধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সাহাবী(রা.)গন কি সেসব নারীর সাথে সহবাস করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমরা আবার সিরাত গ্রন্থগুলোতে ফিরে যেতে পারি। ‘সীরাতুল মুস্তফা সাঃ’ গ্রন্থে আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী(.) উল্লেখ করেছেন

 

গনীমতের মাল বণ্টনের পর হাওয়ায়িন গোত্রের নয়জনের একটি দল রাসূল (সা)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়। তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করার পর নবী (সা)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের ধন-সম্পদ ও পরিবারবর্গ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন পেশ করেন। ...

... নবী (সা) ইরশাদ করেন, আমার এবং বনী হাশিম ও বনী আবদুল মুত্তালিবের গোত্রের অংশে যা কিছু বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে, এ সমস্ত তোমাদের। কিন্তু অন্যান্য মুসলমানদের মধ্যে যা কিছু বণ্টন করা হয়েছে এ সম্পর্কে তোমরা যোহরের নামাযের পর দাঁড়িয়ে বলবে, আমি তোমাদের জন্য সুপারিশ করব। সুতরাং যোহরের নামাযের পর হাওয়ায়িন গোত্রের প্রতিনিধি প্রাঞ্জল ভাষায় বক্তৃতার মাধ্যমে তাদের কয়েদীদের মুক্তির জন্য মুসলমানদের নিকট আবেদন পেশ করেন। অতঃপর রাসূল (সা) দাঁড়িয়ে প্রথমত আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করেন। এরপর বলেন, তোমাদের এই ভাই হাওয়ায়িন ইসলাম গ্রহণ করে আগমন করেছে। আমি নিজের ও আমার গোত্রের অংশ তাদেরকে ফেরত দিয়েছি। অন্যান্য মুসলমানগণও তাদের কয়েদীদেরকে ফেরত দেওয়াটাকে আমি যথার্থ মনে করছি। যে ব্যক্তি আগ্রহে সন্তুষ্টি ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে এরূপ করবে, এটা তাদের জন্য উত্তম হবে। অন্যথায় আমি তাদের বিনিময় প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছি। সবাই বললো, আমরা কল্যাণের জন্য এতে সম্মত ও সন্তুষ্ট আছি। এভাবে ৬ হাজার কয়েদী একবারে আযাদ ও মুক্ত করে দেওয়া হয়।[16]

 

নবী() কর্তৃক ১০ দিন অপেক্ষা করা এবং হাওয়াযিন গোত্রের পুরুষদের অনুরোধে তাদের স্ত্রীদের ফেরত দেয়া – উপরে উল্লেখিত প্রটি তথ্য সহীহ বুখারীর হাদিস দ্বারা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। [17]

 

হাওয়াযিন গোত্রের সেই নারীরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আটক হবার পরে ১০ দিন তাদেরকে এই আশায় বণ্টন করা হয়নি যাতে তাদের গোত্রের লোকেরা তাদের ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এতদিনেও তারা না আসার পরে তাদেরকে সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। আর এর পরেই হাওয়াযিনের প্রতিনিধিরা এসে সেসব নারীদের ফিরিয়ে নেবার জন্য আবেদন করেন। দয়ালু এবং মহানুভব নবী() সঙ্গে সঙ্গে তাদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর নিজ গোত্রের ভাগে যারা পড়েছেন তাদের সবাইকে ফিরিয়ে দেন। অন্য গোত্রগুলোকেও অনুরোধ করেন তারাও যেন কয়েদীদেরকে ফিরিয়ে দেয়। এমনকি যারা স্বেচ্ছায় দিতে চায় না, তাদেরকে বিনিময় অর্থাৎ অর্থ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েদীদের মুক্ত করে দিতে বলেন। সবাই স্বেচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবাইকে মুক্ত করে দেন। এভাবে ৬ হাজার জন বন্দী মুক্ত হয়। তাহলে প্রশ্ন হল – সাহাবীরা তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথে সহবাস করলেন কখন?

 

অধিকার প্রতিষ্ঠা হবার পরেও তাদের সঙ্গে সহবাস করা সাহাবী(রা.)গণের পক্ষে সম্ভব ছিল না কেননা যুদ্ধবন্দিনি নারীর সঙ্গে সহবাসের জন্য তাদের ইদ্দত পূর্ণ হবার শর্ত রয়েছে। আর যুদ্ধবন্দিনিদের ইদ্দত হল তাদের হায়েয হওয়া পর্যন্ত সময়কাল। [18] কাজেই সেই নারীদের সঙ্গে সহবাস হবার মতো সময় ছিল বলেও কোনো উল্লেখ আমরা ইতিহাসে পাই না। উপরন্তু সাহাবীগণ যেসব নারীকে তাদের স্বামীর নিকট ফিরিয়ে দেন। স্ত্রীরা আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, স্বামীরাও ইসলাম গ্রহণ করে স্ত্রীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে আক্রমণকারী শত্রু থেকে পরিবর্তিত হয়ে তাঁরা পরিণত হন নবী() এর সম্মানিত সাহাবীতে। সবাই মুক্ত, স্বাধীন, যে যার পরিবারের কাছে ফিরে গেছে, সাথে করে নিয়ে গেছে দ্বীন ইসলামকে। এর থেকে উত্তম সমাপ্তি আর কী হতে পারে?

 

সেইসব যুদ্ধবন্দিনির সঙ্গে সহবাস জায়েজ হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে কুরআনের একটি আয়াত নাজিল হয়েছিল, আর এই ঘটনার হাদিস দেখিয়ে ইসলামবিরোধীরা সাহাবীদের শানে ধর্ষণের অপবাদ দেয় নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলামী ইতিহাস বিশ্লেষণ করে আমরা দেখলাম ধর্ষণ বা জোরাজুরি করা তো দূরের কথা, সাহাবী(রা.) তাদের সবাইকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সহবাস হয়েছে এমন কোনো উল্লেখও কোথাও পাওয়া যায় না। আর সহবাসই যদি না হয় তাহলে ধর্ষণের কথা আসে কোথা থেকে?

 

এমনকি অধিকারভুক্ত দাসীর সাথে তাঁরা যদি সহবাস করেও থাকতেন, তবু তাতে কোনো অপরাধ ছিল না। ইসলামে দাস-দাসীর সঙ্গে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ করা হয়, [19] পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতায় প্রচলিত দাসপ্রথার মতো ইসলামের দাসপ্রথা আদৌ অমানবিক নয়, [20] এবং সহবাস ও অন্য বিষয়ে দাসীর সঙ্গে জুলুমের কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। [21] [22] কিন্তু বাস্তবে সহবাসেরই কোনো প্রমাণ আমরা পাই না, ধর্ষণের তো প্রশ্নই ওঠে না। ইসলামবিরোধীরা তিলকে তাল বানিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। মূলত তাদের অভিযোগগুলো মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।  

 

 

তথ্যসূত্রঃ


[1] সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস নং : ২১৫৫ (সহীহ)

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=59523

[2] তাফসির কুরতুবী, সুরা বাকারাহর ২২১ নং আয়াতের তাফসির, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৭

https://shamela.ws/book/20855/975

 অথবা https://archive.is/wip/dpoDD (আর্কাইভকৃত)

[3] আল মুগনী – ইবনু কুদামা মাকদিসি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৩৪

https://shamela.ws/book/8463/2944

অথবা https://archive.is/wip/NCirL (আর্কাইভকৃত)

[4] শারহ মুসলিম - ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন নববী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬

https://shamela.ws/book/1711/2148

https://shamela.ws/book/1711/2149

অথবা (আর্কাইভকৃত)

https://archive.is/wip/8s9nX

https://archive.is/wip/ZO8d3

[5] তাফসির তাবারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), সুরা নিসার ২৪ নং আয়াতের তাফসির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৬

মূল আরবির জন্য দেখুনঃ তাফসির তাবারী (আরবি), খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৭৮ 

https://shamela.ws/book/7798/4416

অথবা https://archive.is/wip/OFEya (আর্কাইভকৃত)

[6] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৮৮

মূল আরবির জন্য দেখুনঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (আরবি), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪০

https://shamela.ws/book/23708/1380

অথবা https://archive.is/wip/L60DQ (আর্কাইভকৃত)

[7] আল মুগনী – ইবনু কুদামা মাকদিসি, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৩৫

https://shamela.ws/book/8463/2945

অথবা https://archive.is/7o6bQ (আর্কাইভকৃত)

[8] আল মুহাল্লা – ইবন হাযম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩১৪

https://shamela.ws/book/767/4060

অথবা https://archive.is/yLuB2 (আর্কাইভকৃত)

[9] আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ২৫৬

[10] তাফসির ইবন কাসির (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ), ২য় খণ্ড, সুরা বাকারাহর ২৫৬ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৩৫২

[11] দেখুনঃ ফাতহুল হামিদ ফি শারহিত তাওহিদ - উসমান বিন আব্দুল আযিয আত তামিমি, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৬০৪

https://www.noor-book.com/كتاب-فتح-الحميد-في-شرح-التوحيد-pdf

[12] আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৯৮-২৯৯

https://shamela.ws/book/11430/1929

https://shamela.ws/book/11430/1930

অথবা (আর্কাইভকৃত)

https://archive.is/wip/CLbp4

https://archive.is/wip/UM9Gd

[14] দেখুনঃ সীরাতুল মুস্তফা সাঃ (৩য় খণ্ড) - ইদরীস কান্ধলভী, পৃষ্ঠা ৬১

[15] সীরাতুল মুস্তফা সাঃ (৩য় খণ্ড) - ইদরীস কান্ধলভী, পৃষ্ঠা ৬৯

[16] সীরাতুল মুস্তফা সাঃ (৩য় খণ্ড) - ইদরীস কান্ধলভী, পৃষ্ঠা ৬৯-৭০

[17] দেখুনঃ সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৩১৩১

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27470

[18] দেখুনঃ আবু দাঊদ ২১৫৭, আহমাদ ১১২২৮;  মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নং : ৩৩৩৮

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=68665

[19] দেখুনঃ "দাসপ্রথা ও ইসলাম" - মুহাম্মাদ সাদাত (Response To Ant-Islam)

https://response-to-anti-islam.com/p/172

[20] দেখুনঃ "ইসলামে দাসপ্রথা" - মুহাম্মাদ শাকিল হোসাইন (Response To Ant-Islam)

https://response-to-anti-islam.com/p/171

[21] দেখুনঃ "ইসলামে কি যুদ্ধবন্দী কিংবা দাসী ধর্ষণের অনুমতি আছে?" - মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার (Response To Ant-Islam)

https://response-to-anti-islam.com/p/379

[22] দেখুনঃ "ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ" - মুহাম্মাদ সাদাত (Response To Ant-Islam)

https://response-to-anti-islam.com/p/173

সোশ্যাল লিঙ্ক ও অ্যাপ

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ পোস্টসমূহ