Pray for the world economy

আবু হুরায়রা(রা.) কি নিজের কথাকে নবী(ﷺ) এর বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিতেন (নাউযুবিল্লাহ)?

 

অভিযোগঃ

ইসলামবিরোধীরা বিভিন্ন উপায়ে হাদিস শাস্ত্রের উপরে অভিযোগ করতে চায়। সহীহ বুখারীর একটি হাদিস দেখিয়ে তারা অভিযোগ তোলে আবু হুরায়রা(রা.) নাকি নিজের কথাকে নবী() এর হাদিস হিসেবে চালিয়ে দিতেন (নাউযুবিল্লাহ)। হাদিসটি হচ্ছেঃ

 

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا تَرَكَ غِنًى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ "‏‏. تَقُولُ الْمَرْأَةُ إِمَّا أَنْ تُطْعِمَنِي وَإِمَّا أَنْ تُطَلِّقَنِي‏. وَيَقُولُ الْعَبْدُ أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي‏. وَيَقُولُ الاِبْنُ أَطْعِمْنِي، إِلَى مَنْ تَدَعُنِي فَقَالُوا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏. قَالَ لاَ هَذَا مِنْ كِيسِ أَبِي هُرَيْرَةَ‏.

অর্থঃ  আবু হুরাইরা(রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী() বলেছেন, সচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান-খয়রাত করা হয় তাই উত্তম। নীচের হাতের চেয়ে উপরের হাত শ্রেষ্ঠ। নিকটাত্মীয়দের থেকে (দান-খয়রাত) শুরু কর।  এটা কি ভাল কথা যে, স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও নতুবা তালাক দাও। চাকর বলবে আগে খাবার দাও পরে কাজ লও। সন্তান বলবে, আমাকে খাবার না দিয়ে কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ? লোকেরা বলল : হে আবু হুরাইরা! আপনি কি এ কথাগুলো রসূলুল্লাহ() -এর কাছে শুনেছেন ? তিনি বলেন, না। এ কথাগুলো আবু হুরাইরা (রা) নিজের প্রজ্ঞা থেকে বলছি[1]

 

হাদিসটির ইংরেজি অনুবাদ নিম্নরূপঃ

 

Narrated Abu Huraira:  "The Prophet () said, 'The best alms is that which is given when one is rich, and a giving hand is better than a taking one, and you should start first to support your dependents.' A wife says, 'You should either provide me with food or divorce me.' A slave says, 'Give me food and enjoy my service." A son says, "Give me food; to whom do you leave me?" The people said, "O Abu Huraira! Did you hear that from Allah's Messenger () ?" He said, "No, it is from my own self." [2]

 

তারা দাবি করে এখানে আবু হুরায়রা(রা.) প্রথমে একটি হাদিস বললেন, পরে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল এটা তিনি রাসুল() এর কাছে শুনেছেন কিনা তখন তিনি নিজ মুখে স্বীকার করলেন যে এটা তিনি রাসুল() এর কাছে শোনেননি বরং নিজে থেকে বলেছেন। এর মানে হচ্ছে আবু হুরায়রা(রা.) নিজের কথাকে রাসুল() এর হাদিস হিসেবে চালিয়ে দিতেন, তিনি হাদিস জালিয়াতী করতেন। (নাউযুবিল্লাহ)

 

জবাবঃ

 

প্রথমতঃ

এই হাদিসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে লোকদের প্রশ্নের উত্তরে আবু হুরায়রা(রা.) বলে দিচ্ছেন তিনি রাসুল() এর কাছে এটি শোনেননি বরং নিজে থেকে বলেছেন। তাঁর যদি হাদিস জালিয়াতী করবার ইচ্ছাই থাকতো, তাহলে তিনি মোটেও এভাবে উত্তর দিতেন না বরং হ্যাঁ সূচক উত্তর দিয়ে নিজ কথাকে রাসুল() এর হাদিস হিসেবে চালানোর চেষ্টা করতেন। বরং এই হাদিস আবু হুরায়রা(রা.) এর সততার পরিচায়ক। এই হাদিস থেকে কিভাবে আবু হুরায়রা(রা.) এর বিরুদ্ধে জালিয়াতীর অভিযোগ আনা হয় সেটাই অবাক করা ব্যাপার।

 

দ্বিতীয়তঃ

এরপরেও প্রশ্ন জাগতে পারে, শুরুতে নবী() এর হাদিস বলে এরপরে কেন আবু হুরায়রা(রা.) নিজস্ব কথা বললেন?

 

এর উত্তর পাওয়া যায় বিস্তারিত বর্ণনাগুলোর মধ্যে। যেখানে পূর্ণ ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। আবু হুরায়রা(রা.) থেকেই এই সংক্রান্ত বিবরণ অন্য বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত আছে। কিছু বর্ণনায় আরো বিস্তারিতভাবে বিষয়টির আলোচনা আছে।

 

মুসনাদ আহমাদ গ্রন্থে এই একই রকম আরেকটি ঘটনার ব্যাপারে বর্ণিত আছে,

 

خَيرُ الصَّدَقةِ ما كان عن ظَهرِ غِنًى، واليَدُ العُليا خَيرٌ مِن اليَدِ السُّفلَى، وابدَأْ بمَن تَعولُ. قال: سُئِلَ أبو هُرَيرةَ: ما مَن تَعولُ؟ قال: امرأتُكَ، تَقولُ: أطعِمْني أو أنفِقْ علَيَّ -شَكَّ أبو عامِرٍ- أو طَلِّقْني، وخادِمُكَ يَقولُ: أطعِمْني واستَعمِلْني، وابنَتُكَ تَقولُ: إلى مَن تَذَرُني؟

অর্থঃ উত্তম সাদাকা হল যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। উঁচু (দাতা) হাত নিচু (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা উত্তম। তাদের মাধ্যমে ব্যয় করা আরম্ভ কর যাদের ভরন-পোষণ তোমার যিম্মায় (বা নিকটাত্মীয়)। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা(রা.)কে জিজ্ঞেস করা হল কাদের ভরন-পোষণ আমাদের যিম্মায়? তিনি বললেন, স্ত্রী। সে বলবে, “হয় আমাকে খাবার দাও, নইলে তালাক দাও”। গোলাম বলবে, “খাবার দাও এবং কাজ করাও”। কন্যা সন্তান বলবে, “আমাকে তুমি কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ?” [3]

 

এখানে মুসনাদ আহমাদের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে আবু হুরায়রা(রা.) প্রথমে রাসুল() এর একটি হাদিস বলেছেন। তাঁকে এরপর জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কাদেরকে প্রতিপালন তাঁদের যিম্মায় বা দায়িত্বে। এর উত্তরে তিনি রাসুল() এর হাদিসের ব্যাখ্যায় কিছু বিষয় বলেছেন। সহীহ বুখারীর হাদিসে যে ঘটনার উল্লেখ আছে সেই ঘটনাতেও একইভাবে ব্যাখ্যা সহকারে আবু হুরায়রা(রা.) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, যেহেতু তা প্রাসঙ্গিক আলোচনা। পূর্বেই যেহেতু এ ব্যাপারে মানুষ তাঁর নিকট প্রশ্ন করেছিল, কাজেই তিনি ব্যাখ্যা সহকারে বিষয়টি আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেছিলেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছে এই (ব্যাখ্যাকৃত) অংশটি তিনি রাসুল() এর থেকে শুনেছিলেন কিনা। উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এই অংশটি তিনি রাসুল() এর থেকে শোনেননি বরং এটা তিনি নিজ প্রজ্ঞা থেকে বলেছেন, অর্থাৎ এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা। আবু হুরায়রা(রা.) নিজের কথাকে রাসুল() এর কথা বলে চালাচ্ছেন এমন দূরতম ব্যাপারও এখানে নেই। হাদিসের বর্ণনাকারীদের নিকট স্পষ্ট ছিল কোনটা আবু হুরায়রা(রা.) এর বাণী আর কোনটা রাসুল() এর বাণী। যেমন, সুনানুল কুবরা গ্রন্থে একই ঘটনার ব্যাপারে বর্ণিত আছে,

 

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - : " إن أفضل الصدقة ما ترك غنى واليد العليا خير من اليد السفلى وابدأ بمن تعول " . قال أبو هريرة رضي الله عنه : تقول امرأتك أطعمني وإلا فطلقني ويقول خادمك أطعمني وإلا فبعني ويقول ولدك إلى من تكلني . قالوا : يا أبا هريرة هذا شيء تقوله من رأيك أو من قول رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ؟ قال : لا بل هذا من كيسي .

অর্থঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ)  বলেছেন, উত্তম সাদাকা হল যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। উঁচু (দাতা) হাত নিচু (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা উত্তম।

আবু হুরায়রা(রা.) বলেছেন, স্ত্রী বলবে, “হয় আমাকে খাবার দাও, নইলে তালাক দাও”। গোলাম বলবে, “খাবার দাও নইলে আমাকে (অন্যত্র) বিক্রি করে দাও”। সন্তান বলবে, “আমাকে তুমি কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ?”

লোকেরা বললঃ হে আবু হুরাইরা! আপনি কি এ কথাগুলো নিজের রায়ের ভিত্তিতে বলেছেন, নাকি রাসুলুল্লাহ() -এর বক্তব্য থেকে বলেছেন ? তিনি বলেন, না। এ কথাগুলো আমি আমার থলে (প্রজ্ঞা) থেকে বলেছি[4]

 

এখানে আলাদা করে উল্লেখ আছে কোনটা রাসুল() এর বক্তব্য আর কোনটা আবু হুরায়রা(রা.) এর বক্তব্য। আসলে সবগুলো হাদিস দেখা হলে পূর্ণ ঘটনাটি বোঝা যায় এবং এখানে বিভ্রান্তির আর কোনো অবকাশই থাকে না। ইমাম ইবন হাজার আসকালানী(র.) সহীহ বুখারীর আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,

 

أَنَّهُ مِنَ اسْتِنْبَاطِهِ مِمَّا فَهِمَهُ مِنَ الْحَدِيثِ

অর্থঃ “অর্থাৎ তিনি হাদিস থেকে যা জ্ঞানলাভ করেছেন, এর আলোকে কথাগুলো বলেছেন।[5]

 

রাসুল() এর হাদিসের ভিত্তিতে সাহাবী(রা.)গণ ইজতিহাদ করতেন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতেন। এটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। আবু হুরায়রা(রা.) এর বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধীদের অভিযোগ যে নিতান্তই অসার তা এখানেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

 

অতএব এখানে—

 

রাসুলুল্লাহ (ﷺ)  এর বক্তব্যঃ  উত্তম সাদাকা হল যা দান করার পরেও মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। উঁচু (দাতা) হাত নিচু (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা উত্তম। তাদের মাধ্যমে ব্যয় করা আরম্ভ কর যাদের ভরন-পোষণ তোমার যিম্মায় (বা নিকটাত্মীয়)।

 

আবু হুরায়রা(রা.) এর ব্যাখ্যাঃ

স্ত্রী; সে বলবে, “হয় আমাকে খাবার দাও, নইলে তালাক দাও”। গোলাম বলবে, “খাবার দাও এবং কাজ করাও। নইলে আমাকে (অন্যত্র) বিক্রি করে দাও”। পুত্র ও কন্যা সন্তান বলবে, “আমাকে খাবার না দিয়ে তুমি কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ?”

 

তৃতীয়তঃ

অন্য সাহাবীদের থেকে এই একই ঘটনার বিবরণগুলো যদি আমরা দেখি, তাহলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে।তাহলে আরো স্পষ্ট বোঝা যাবে যে নবী() এর বক্তব্যের সাথে আবু হুরায়রা(রা.) এর বক্তব্য মিশ্রিত হয়ে যাবার কোনো ব্যাপারই এখানে ঘটেনি। নবী() থেকে এই একই বক্তব্যগুলো অন্যান্য সাহাবীদের থেকেও বর্ণিত আছে। শুধু সহীহ মুসলিম গ্রন্থেই অন্যান্য সাহাবীদের থেকে এই প্রসঙ্গে একাধিক হাদিস বর্ণিত আছে। এই বর্ণনাগুলোর সনদের মাঝে আবু হুরায়রা(রা.) নেই।

 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، - قَالَ ابْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ طَلْحَةَ، يُحَدِّثُ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ - أَوْ خَيْرُ الصَّدَقَةِ - عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ ‏"‏‏.

অর্থঃ মুহাম্মাদ ইবনু অর্থঃ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... হাকীম ইবনু হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ() বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম দান। উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (বা ভিক্ষাকারীর) চেয়ে উত্তম। আর যাদেরকে লালন পালন করো তাদেরকে দিয়ে অর্থাৎ নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দান-খয়রাত শুরু কর[6]

 

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ ‏ "‏ الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ وَالسُّفْلَى السَّائِلَةُ ‏"‏ ‏.‏

অর্থঃ কুতায়বাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ’আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ() মিম্বারে দাঁড়িয়ে নাসীহাত করলেন। তিনি বললেন, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হলো দানকারী। আর নীচের হাত হলো দান গ্রহণকারী। [7]

 

আমরা দেখলাম একই প্রসঙ্গের হাদিস অন্য সাহাবীদের থেকেও বর্ণিত আছে এবং সেখানে নবী() এর বাণীর মাঝে আবু হুরায়রা(রা.) এর ব্যাখ্যাকৃত সেই কথাগুলো নেই। বরং আবু হুরায়রা(রা.) থেকে নবী() এর হাদিস হিসেবে যেই কথাগুলো বর্ণিত আছে, সেই কথাগুলো এখানেও আছে। আবু হুরায়রা(রা.) এর কোনো বক্তব্য নবী() এর হাদিসের সাথে মিশে যায়নি। পূর্বযুগের মুহাদ্দিসদের কারো মাঝেই এ ব্যাপারে কোনো বিভ্রান্তি ছিল না কোনটি আবু হুরায়রা(রা.) এর বক্তব্য আর কোনটা রাসুল() এর বক্তব্য। যেমন, ইমাম নববী(র.) তাঁর ‘রিয়াদুস সলিহীন’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা(রা.) থেকে এই প্রসঙ্গে সহীহ বুখারীর হাদিসগুলো একত্রে উল্লেখ করেছেন। সেখানে আবু হুরায়রা(রা.) এর ব্যাখ্যাকৃত অংশ নেই, শুধু নবী() এর হাদিস অংশ আছে।

 

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ العِبَادُ فِيهِ إلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ، فَيقُولُ أحَدُهُمَا : اَللهم أعْطِ مُنْفقاً خَلَفاً، وَيَقُولُ الآخَرُ : اَللهم أعْطِ مُمْسِكاً تلَفاً». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

وَعَنهُ، عَنِ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اليَدُ العُلْيَا خَيْرٌ مِنَ اليَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأ بِمَنْ تَعُولُ، وَخَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنىً، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ»رواه البخاري

অর্থঃ আবূ হুরাইরাহ(রা.) কর্তৃক বর্ণিত, নবী() বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, ’হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের বিনিময় দিন।’ আর অপরজন বলেন, ’হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস দিন।” (বুখারী ও মুসলিম)

উক্ত সাহাবী হতেই বর্ণিত, নবী() বলেন, “উপরের (দাতা) হাত নিচের (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদেরকে আগে দাও। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকাহ করা উত্তম। যে ব্যক্তি (হারাম ও ভিক্ষা করা থেকে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বেঁচে থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবশূন্য করে দেন।” (বুখারী) [8]

 

আসলে হাদিসশাস্ত্র এতো ঠুণকো জিনিস না যে নবী() এর বক্তব্য সাহাবীদের বক্তব্যের সাথে মিশ্রিত হয়ে বিকৃত হয়ে যাবে। বরং নবী() এর বহুসংখ্যক বিশ্বস্ত সাহাবীদের দ্বারা তাঁর বক্তব্যগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর ইজমা অনুযায়ী সাহাবীগণ সকলেই সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। [9] তাঁদের কেউ নিজ থেকে হাদিসের মাঝে জালিয়াতী করে নিজের কথাকে নবী() এর কথা বলে চালিয়ে দেবেন তা কখনো সম্ভব নয়।

 

 

তথ্যসূত্রঃ


[1] সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৪৯৫৫ (আধুনিক প্রকাশনী)

https://archive.org/details/adonikprokasoniBukharihadith/সহীহ%20আল%20বুখারী%20৫ম%20খণ্ড/page/n161/mode/2up?view=theater

অথবা https://archive.is/6RaUu (আর্কাইভকৃত)

[3] মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং : ১০৭৮৫ (সহীহ)

https://www.dorar.net/hadith/sharh/139364

অথবা https://archive.is/wip/Z4nK1 (আর্কাইভকৃত)

[4] সুনানুল কুবরা, হাদিস নং : ১৫২৩৪

https://www.islamweb.net/ar/library/index.php?page=bookcontents&ID=15235&bk_no=71&flag=1

অথবা https://archive.is/ZT8ui (আর্কাইভকৃত)

[5] ফাতহুল বারী- ইবন হাজার আসকালানী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫০১

https://shamela.ws/book/1673/5469

অথবা https://archive.is/wip/VYk1P  (আর্কাইভকৃত)

[6] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ২২৭৬

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=49363

[7] সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ২২৫৭

https://www.hadithbd.net/hadith/link/?id=11622

[8] রিয়াদুস সলিহীন,  হাদিস নং : ৩০১

https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=22638

[9] "all of them are trustworthy and of good character according to the consensus of the Muslims.”

https://islamqa.info/en/159184

অথবা https://archive.is/wip/1LSjZ (আর্কাইভকৃত)